আজ ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আমার দরজা সবার জন্য খোলা – মেয়র জাহাঙ্গীর আলম

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

আমি ইচ্ছা করলে উত্তরা, গুলশান, বনানীতে থাকতে পারতাম।কিন্তু তা না করে মহানগরের ভিতরে রাস্তার পাশে বাড়ি করে নগরবাসীর কাছাকাছি সবাইকে সাথে নিয়ে একসাথে বসবাস করছি।মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে তারা যেন সহজে আমাকে তাদের কাছে পায় সেজন্যই এমনটি করা। গাজীপুর মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম।মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন,শৈশব কাল থেকেই আমি আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছি।

গাজীপুর মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ সম্পর্কে মেয়র বলেন, একটি সংগঠন একদিনে গড়ে ওঠেনি তিল তিল করে এই মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ গড়ে উঠেছে। একটি সংগঠন ভাঙ্গা সহজ কিন্তু গড়া খুব কঠিন।গেল ৪০ বছরে মহিলা আওয়ামী লীগের ৫ থেকে ১০ জন সদস্য থেকে এখন হাজার হাজার সদস্য।জাহাঙ্গীর আলম বলেন একজন মহিলা একজন মা।সুতরাং স্বামী-সন্তান-সংসার সামনে একজন মহিলার জন্য রাজনীতি করা সত্যিই খুব কঠিন কাজ।আর সেই কঠিন কাজটি করে যাচ্ছেন মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য সহ প্রতিটি মহিলা রাজনীতিবিদ।

দলের সিনিয়র নেতাদের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, গাজীপুরের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ জানেন আমি ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ছাত্র রাজনীতি করেছি ।সেখানে পদ পাওয়ার জন্য আমি কোনদিন লোভ করিনি।আমাকে ভাওয়াল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ দেয়া হল আমি স্বেচ্ছায় সেটি ছেড়ে দিয়ে দলের স্বার্থে সাধারণ সদস্যের পদটি বেছে নিলাম।
জাঙ্গির আলম বলেন, তৃতীয়বারের মতো ভিপি পদ ছেড়ে দিয়ে প্রমাণ করেছি ক্ষমতার লোভ আমার নেই। তিনি বলেন উপজেলা নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলাম। কিন্তু সিনিয়র নেতাদের সম্মান দিয়ে সেখান থেকে সরে এসে আমি ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করি।

মেয়র বলেন আপনারা দেখেছেন আমার বাসায় আমি কোন গেইট পর্যন্ত রাখিনি।মানুষ যাতে সহজে এসে আমার সাথে দেখা করে সেবাটুকু নিতে পারে সেজন্যই সকলের জন্য আমার দ্বার উন্মুক্ত রেখেছি।সিটি কর্পোরেশন গঠনে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রথম মেয়র পদ টি দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আমাকে মনোনয়ন দিলে লক্ষ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে আমি মেয়র নির্বাচিত হই।

মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ইশতেহার অনুযায়ী গাজীপুর সিটি কে একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সকলকে সাথে নিয়ে সকলের পরামর্শক্রমে কাজ শুরু করি। তিনি বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নগর উন্নয়নের জন্য এখানে হাজার হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যে বরাদ্দ দিয়েছেন।
ইতিমধ্যেই আমরা ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি যা এখন দৃশ্যমান।নেয়ার বলেন রাস্তাঘাট উন্নয়ন না হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এর মাধ্যমে আমি যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আস্থাভাজন হয়ে রাজনীতি করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতির কারণে জাতিসংঘ কর্তৃক তাকে ক্রাউন জুয়েল উপাধিতে ভূষিত করায় বিএনপি-জামাতের অন্তরে আঘাত লাগে। ঠিক তেমনি গাজীপুরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা নিজেদেরকে আওয়ামী লীগের সদস্য দাবি করে অথচ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মিথ্যে বদনাম রটাচ্ছে।

মেয়র বলেন,মেয়র হিসেবে প্রতিটি মানুষের ভাল মন্দের খোঁজ খবর আমাকে নিতে হয়।মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আর কাজ করতে গেলে ভুল হতই পারে।আমরা কেউই ভুলের উর্ধ্বে নই।কাজ করতে গিয়ে যদি কোন ভুল হয়ে থাকে সেটা দেখবে আমার রাজনৈতিক অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেটি অবশ্যই মাথা পেতে নিব।

মেয়র বলেন, পদ গেলেও আমি সাবেক থাকবো।তিনি বলেন,মানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে সবসময় তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কেউ বলতে পারবেনা টাকার বিনিময়ে আমি কাজ করে দেই।আমার একটি মাত্র সন্তান তাকে সময় না দিয়ে আমার পরিবার কে সময় না দিয়ে নগরবাসীর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। মেয়র বলেন,এখন কাজের সময় তাই আসুন সকল ভেদাভেদ ভুলে নগর উন্নয়নে এক সাথে সবাই মিলে কাজ করি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীর ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া করা হয় এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
গাজীপুর

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
গাজীপুর ডক্টরস চেম্বার https://www.facebook.com/GazipurDoctorsChamber/