আজ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

উপেক্ষা স্বাস্থ্যবিধি\চড়াদামে কাপড় বিক্রি রূপগঞ্জে লকডাউনেও জমজমাট ঈদবাজার!

রূপগঞ্জ (নারায়নগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ

দেইখ্যা লন, বাইচ্যা লন; যা লন ২শ,আবার কোনটা ৩শ। এমন হাক ডাকে সরগরম রূপগঞ্জের কাপড়ের হাটবাজারের সামনে থাকা ফুটপাত। আবার মার্কেটের ভেতরও ভিন্ন চিত্র। পবিত্র ঈদ উল ফিতরকে সামনে রেখে করোনা মহামারী পরিস্থিতিতেও জমে ওঠেছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বিভিন্ন কাপড়ের মার্কেট।

সরকারীভাবে ৩য় ধাপে ৫ মে পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করলেও স্বাস্থ্যবিধির উপেক্ষা চিত্র সর্বত্র। বেশির ভাগ ক্রেতা বিক্রেতার মুখে দেখা মেলেনি মাস্কের ব্যবহার। এমনকি মার্কেটের প্রবেশ পথে নেই হাত ধোয়া কিংবা জীবানুনাশক স্প্রেএর ব্যবস্থা। নেই প্রশাসনের তৎপরতাও। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতেও ঈদের কেনাকাটার উপচে পড়া ভির দেখা গেছে এ অ লে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দেশের বৃহত্তম পাইকারী মার্কেট গাউছিয়া মার্কেটের ভবনের উপরে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য মাইকে ঘোষণা দিচ্ছেন। বাস্তবে ওই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে হাজারো ক্রেতা বিক্রেতারা আগের মতোই কেনা কাটা করছেন। করোনা পরিস্থিতিতে নিন্ম আয়ের লোকজন যখন বিপাকে সেই সময়ে এখানকার ব্যবসায়ীরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চড়া দামে কাপড় বিক্রি করছেন সিন্ডিকেট করে। এতে ক্রেতারা কমদামের কাপড় বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। একই চিত্র তারাবো পৌরসভার রূপসী, বরপা, মুড়াপাড়া বাজার, কা ন পৌর বাজার ভোলাবো আতলাপুর বাজার, ইছাপুরা ও বেলদী বাজারের। এসব কাপড়ের দোকানে নিন্ম মানের কাপড়কে ইন্ডিয়ান, চায়না, পাকিস্তানি বলে বেশি দাম হাকা হচ্ছে। আবার গাউছিয়া মার্কেটের বেশির ভাগ দোকানেই একদর স্টিকার লাগিয়ে আকাশ ছোঁয়া মুল্য লিখে ঝুলে রাখা হয়েছে রং বেরংয়ের নারী পুরুষের কাপড়।

ক্রেতারা ভুল করে যাচাই না করেই তাদের বেঁধে দেয়া মুল্যেই কিনতে বাধ্য হচ্ছেন । তবে একটু সচেতন ক্রেতারা সেই কাপড় দামদর করেই ক্রয় করছেন গোয়ালপাড়া এলাকার গৃহবধূ তানজুমা আইজি ইকরা বলেন, গাউছিয়া মার্কেট এলাকার ছোঁয়া ফ্যাশন নামে একটি দোকান থেকে কাপড় কিনতে যাই। সেখানে বিক্রেতারা শিশুদের একসেট কাপড়ের গায়ে ৫ হাজার লিখে রাখে। কিন্তু ওই কাপড় দামদর করে শেষে ২ হাজার টাকায় ক্রয় করি। এভাবে অন্য দোকানেও কাপড় দেখিয়ে ৪গুণ বেশি দাম হাকায় বিক্রেতারা। ফলে ক্রেতারা হতাশ হয়ে অর্ধেক দাম বললেই কাপড় দিয়ে দেয়। তিনি আরো বলেন, এক সময় গুলিস্তানে এমন প্রতারনা হতো। এখন রূপগঞ্জের হাটাবাজারে এসব হয়। সাধারন মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।

অপর ক্রেতা আধুরিয়া এলাকার বাসিন্দা আমির হোসাইন বলেন, লকডাউন পরিস্থিতিতে কখন পুরো মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়, তা বলা যায় না। তাই সবাইকে নিয়ে মার্কেট করতে এসেছি। কিন্তু কোন প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মানার চিত্র দেখলাম না। ব্যবসায়ীরাও কোন ব্যবস্থা রাখেনি। ব্যবসায়ীরা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে আমরা হতাশায় আছি। ঈদের জন্য যেসব কাপড় কিনেছি, তা বিক্রি করতে পারবো কি না তা জানা নেই। কারন যে কোন সময় বন্ধ হতে পারে। এসব নানা কারনে একটু বেশি দাম রাখা হচ্ছে। তাছাড়া, ভারত থেকে পণ্য কিনে আনতে খরচ বেশি তাই বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

গাউছিয়া (২) এর কাপড় ব্যবসায়ী রাইসুল ইসলাম বলেন, মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফেতরকে সামনে রেখে জমজমাট এখন কাপড়ের দোকান। ভির বেশি তবে বিক্রি কম। মধূখালী এলাকার বাসিন্দা আরমান হুসাইন বলেন, হাজার হাজার লোক দলবেঁধে কেনাকাটায় নেমে পড়েছেন। ক্রেতাদের ভিড় দেখে মনে হয় করোনা মহামারী বলতে কিছু নেই। তাদের কাছে এটা যেন কিছুই না। অথচ করোনায় আক্রান্ত, মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ভিড়ের কারণে ক্রেতারা সারি বেঁধে মার্কেটে ঢুকছেন, ভিড় ঠেলে দরদাম না করেই পছন্দের পোশাকটি একটু বাড়তি দামে কিনছেন।

বেশি ভিড় দেখা যায় জুতা, স্যান্ডেল, পাঞ্জাবি ও অলঙ্কারের দোকানগুলোতে। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে হাজির হচ্ছেন এসব মার্কেটে। ঈদের দিনে পছন্দের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে চাই প্রসাধনীও। তাই অলঙ্কার আর কসমেটিকসের দোকানেও ছিল সব বয়সী নারী পুরুষের ভিড়। ঈদের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে গয়না কিনতে দেখা গেছে অনেককেই। এদিকে ঈদ কেনাকাটা করতে অন্য সময় সামর্থ্য বানেরা লন্ডন কিংবা কলকাতায় ছুটলেও এবার করোনার কারনে নিজ এলাকাই ক্রয় করছেন। ঢাকায় পোশাকের দাম অত্যধিক। এর প্রভাব আশপাশের উপজেলায়ও। তাছাড়া ঈদের সময় দাম আরো বাড়িয়ে দেয় কাপড় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটরা।

এসব বিষয়ে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নাজিমউদ্দিন মজুমদার বলেন, ক্রেতা বিক্রেতা উভয়কে স্বাস্থ্য বিধি মানার কঠোর নির্দেশনা ও শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের পুলিশ সদস্যরাও তা খেয়াল করছেন। তবে ঈদকে সামনে রেখে গরীব ক্রেতা বিক্রেতার কথা ভেবে ফুটপাতেও সুযোগ করা হয়েছে। এ সময় তিনি আরো বলেন, কোন বিক্রেতার কাছে কোন ক্রেতা প্রতারিত হলে আমাদের জানালে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

গাউছিয়া মার্কেট কাপড় ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক আব্দুল আউয়াল বলেন, মার্কেটগুলো সব সময়ের জন্য খোলা রাখলে এমন ভির হতো না। সরকার সব সময়ের জন্য স্বাস্থ্য বিধি মানার শর্তে খুলে দিলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হতো। তবে বেশি দামে বিক্রির বিষয়টা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সম্পর্ক ও বোঝাপড়ার বিষয়। এতে উভয় পক্ষ জেনে বুঝেই ক্রয় বিক্রয় করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
%d bloggers like this: