আজ ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গাজীপুর মহানগরের ৩৭নং ওয়ার্ডে তুচ্ছ ঘটনায় শাকিল খুনের আসামী গ্রেপ্তার ৪

নটন কান্তি-কর গাজীপুর থেকে ঃ

গত সোমবার রাতে গাজীপুর মহানগরের তারগাছ এলাকায় মোবাইলে গেমস্ খেলাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয় কিশোর মোঃ শাকিল (১৭) ও মোঃ ফাহিম (১৫) অল্পের জন্য বেঁচে যায়। তাদের আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসে আহত অবস্থায় স্থানীয় তায়রুননেছা হাসপাতালে নেওয়ার পথে শাকিল মারা যায়, এবং ফাহিম কে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে রেফার্ড করা হয়।

শাকিল স্থানীয় আহসানউল্লাহ মাস্টার উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। সে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার দিতপুর গ্রামের মোঃ এজাজুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে সে মহানগরের তারগাছ এলাকার রুবেল মোল্লার বাড়িতে বাবা-মায়ের সাথে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিল। ফাহিম স্থানীয় প্রত্যাশা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্র, পিতা ফারুক হোসেন, কুনিয়া পাছর, ৩৭ নং ওয়ার্ড গাজীপুর মহানগর।

ঘটনার রাতে হাবিবুল্লাহ সহ মোট ৪ জনকে আটক করেছে জিএমপির গাছা থানা পুলিশ। গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি মাদক সংক্রান্ত ঘটনার জেরে ওই হত্যাকাণ্ড হতে পারে। প্রথমে যদিও বলা হয়েছিল গেম খেলাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে এলাকাবাসীর বক্তব্য ও প্রাথমিক তদন্তে মাদকের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমামলার তদন্তকারী এস আই মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, হাবীবুল্লাহ কে ৪ দিনের রিমান্ডে এনে যাদের নাম এসছে তাদের ভিতর থেকে আমরা ৩ জন আসামী গ্রেপ্তার করি, (১)মিজান ১৮, পিতা আব্দুল মালেক সাং গাহেদ গ্রাম, থানা ইশ্বরগন্জ, জেলা ময়মনসিংহ। (২)হৃদয় ১৯, পিতা মোখলেছুর রহমান, (৩) শিমুল ১৯, পিতা করিম উভয় সাং কুনিয়া তারগাছ, থানা গাছা, গাজীপুর মহানগর। পর্যায়ে ক্রমে তাদের রিমান্ড আবেদন করে জিঙ্গাসাবাদ করা হবে।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম দুলাল জানান, অপরাধের সাথে আমাদের কোন আপোষ নেই। আমরা অপরাধীকে ঘৃণা করি। আমরা চাই অপরাধীর সাজা হোক। আর এ ব্যাপারে অবশ্যই আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহযোগিতা করতে চাই। আর এ ব্যাপারে তার ছেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, হাবিবুল্লা এলাকার ছেলে, আমার বাসাই কাজ করত! গত ২ বছর ধরে আমার এখানে নিয়মিত আমার সাথে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম করত, হাবিবুল্লাহ কে কোন খারাপ কাজের সাথে জড়িত হতে দেখেনি। যেহেতু এলাকাবাসির কথা অনুসারে শাকিল হত্যার সাথে জড়িত, আমি নিজেই তায়রুননেছা মেডিক্যালে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হাতে তুলে দেয়। আমি ও আমার ছেলেরা অন্যায় করিনা এবং কোন ধরনের অন্যায়কে আশ্রয়-প্রশ্রয় এ পর্যন্ত দেইনি। প্রচলিত আইনে মামলা চলবে, এতে করে প্রকৃত হত্যা কান্ডের ঘটনার আসামি সে যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে (যদি প্রশাসন চায় তাহলে লোকাল কাউন্সিলর হিসাবে) আমার সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে বলে জানান।

কাউন্সিলর সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, শাকিল হত্যাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে আমাকে হেয় পতিপন্ন করছে! আমি আমার রাজনৈতিক লিডারদের সাথে আলোচনা করে যারা আমার বিরুদ্ধে অপ-প্রচার চালাচ্ছে তাদের ব্যাপারে আইণগত ব্যবস্থা অতি শিগরি নিব বলে জানান।

তিনি আরো বলেন, জুয়েল মন্ডল তার বাসায় সাংবাদিক সম্মেলনে করেছেন, ঐ সময়ে তার পাশে এলাকার কোন মুরূব্বি এবং কি শাকিলের বাবা মা বা আত্মীয় স্বজনের কেউ উপস্থিত ছিলনা। শাকিল কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলনা। জুয়েল মন্ডল ২০১৮ সালের গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, এবং কি তিনি আগামী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আমার এই ৩৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচন করবেন, তাই আমার ও আমার ছেলেদের প্রতি তার নির্বাচনের কৌশল থাকাটায় সাবাভিক। এলাকাবাসীর একাধীক মামলা ও অভিযোক রয়েছে জুয়েল মন্ডলের উপর।

শাকিলের পিতা এজাজুল ইসলাম ও ফাহিমের পিতা মোঃ ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আমাদের ছেলেরা রাজনীতির সাথে জরিত ছিল না। আমরা এই নির্মম হত্যা কান্ডের সাথে জারা জরিত তাদের আইনের আওতায় এনে ফাসি কার্যকরের দাবি জানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
%d bloggers like this: