আজ ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

১২ বছরের ছোটন অসুস্থ পিতার খোজে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে মিলছ না দেখা???

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ

রাবেয়া সুলতানা ছোটন নামে ১২ বছরের কন্যা তার জন্ম দাতা পিতার খোঁজে ঢাকার অলিগলির হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে খুঁজে যাচ্ছে, মিলছ না বাবার। দৈনিক একুশের বানী প্রদিবেদকের সামনে পরতেই মেয়েটিকে জিঙ্গাসা করলো মা তুমি কাকে খুজছো?
মেয়েটি কান্না জড়িত কন্ঠে বলে উঠলো আমার বাবা অসুস্থ, সৌদি থেকে ইয়ারপোর্টের গেট দিয়ে আসলে আমার সৎমা ফারহানা বেগম ও ছোট ফুফু পারুল বেগম সহ আরো ৫/৬ পুরুষ তারাহুরা করে কোথায় নিয়ে গেল, তার কোন খোজ খবর আজ পর্যন্ত পাইনি যদি কোন হাসপাতালে পায় আমি ও আমার মা চিকিৎসা করে বাড়ীতে নিয়ে যাবো।

এর মধ্যে ছোটনের মা রোকেয়া বেগম দূর থেকে দেখে দৌরে আসলো। বিস্তারিত জানতে চাইলে রোকেয়া বেগম জানান, আমার ২ ছেলে ১ মেয়ে, আমার স্বামী হারুন অর রশীদ, তার সাথে আমার পারিবারিক ভাবে ১৯৯৬ সালে ইসলামী শরিয়ত মতে বিয়ে হয়। ২০০০ সালের শেষের দিকে তিনি সৌদি আরবে চাকুরীর খোঁজে পাড়ি জমান। সংসার আমাদের ভালোই চলছিলো, ৪/৫ বছর আগে জানতে পারি আমার স্বামী ২০১০ সালে নাকি ২য় বিয়ে করেন। এব্যাপারে বাচ্চাদের বাবার কাছে জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন ধরনের কথা বলে ২য় বিয়ের ব্যাপারে এরিয়ে যেতেন।

৪/৫ মাস পূর্বে আমার স্বামী হারুন সৌদি আরবে ব্রেইন স্টোক করেন, ঐ খানকার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরবর্তী কিছু সুস্থতা বোধ করলে চিকিৎসকের পরামর্শে তার মালিক (সৌদি আরবের) বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ইং রোজ শনিবার বাংলাদেশের সময় বিকাল ৫ ঘটিকায় শাহ্ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছবেন। তাই আমার অসুস্থ স্বামীকে রিসিপ করার জন্য আমার ছেলে মেয়ে সহ গেটে অপেক্ষা করতে থাকি। স্বাভাবিক ভাবে যে গেট দিয়ে বাহির হওয়ার কথা সে গেট দিয়ে বাহির না হয়ে ৮ নাম্বার গেট দিয়ে আমার সতিন ফারহানা বেগম (৩৮) পিতা সামছুল ইসলাম ও আমার ছোট ননদ সহ আরো ৫/৬ জন লোক তারাহুরা করে এ্যাম্বুলেন্সে উঠায়। আমরা জানতে চাইলাম তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তারা আমার ছেলে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে বলেন, হারুন সাহেবের কোন খোজ খবর তোদের দরকার নেই। সন্তানদের নিয়ে ভাল থাক, বেশি বাড়াবাড়ি করলে নিজেও থাকবি না সন্তানদের খুজে পাবিনা এবং কি অকাট্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমাদের শাসিয়ে তারা চলে যায়।

বড় স্ত্রী রোকেয়া বেগম জানান, আমার ২ ছেলে ১ মেয়ে সর্ব প্রকার সুযোগ সুবিধা পিত্যৃস্নেহ ও অধিকার থেকে বন্চিত রাখার পায়তারা করে যাচ্ছে। আমার স্বামী গত ২০ বছর সৌদি থেকে নিজ এলাকায় একাধীক জমি ক্রয় ও একাধীক বাড়ী করা বাদেও গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার কামারজুরি মৌজায় ৪ কাঠার জায়গার ভিতরে ৬তলা ফাউন্ডেশনে ৪ তলা কম্পিলিট বাড়ী যাহার আনুমানিক মূল্য ২ কোটি টাকা, গাজীপুরের টাকশাল শিমুলতলী চতর মৌজায় ৪ কাঠা জমি রয়েছে। শ্রীপুর থানার অন্তর্গত মাত্রা মৌজার হাজী বাড়ীর সাথে মেইন রোডে ৩বিঘা সম্পত্তি ঘিরে কয়েকশ বিদেশী গরুর ফারাম ও মুরগীর ফারাম রয়েছে। ৩৬নং ওয়ার্ডে পাতাকৈর মোল্লা মার্কেট ৬ কাটার একটি প্লট, সহ প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদের লোভে আমার অসুস্থ স্বামীকে কে নিয়ে উধাও হোন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ইং তারিখে নোয়াখালী সোনায়মুড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করি। যাহার নং এসডি আর ২৮৪। এবং ঢাকার বিমান বন্দর থানায় ও একটি সাধারন ডায়েরী করি, যাহার নং ৬৪৭ তাং ১৬/০২/২০২১ ইং তারিখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
%d bloggers like this: