আজ ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সরকারের সমালোচনা না করে জনগণের পাশে দাঁড়ানঃ তথ্যমন্ত্রীর

মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, ষ্টাফ রিপোর্টারঃ

দেশের ক্রান্তি কালে বিএনপিকে ঘরে বসে সরকারের সমালোচনা না করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

আজ ৮ আগস্ট ২০২০ রোজ শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু ২৩ এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতির পিতার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কৃষকলীগ আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা কৃষক লীগ থেকে শিখুন। ধান কাটার সময় কৃষক লীগ ধান কেটেছে। বিএনপিকে দেখা যায়নি। শুধু কেটেছে তা নয়, মাথায় করে সেই ধান বাড়ি বাড়ি দিয়ে এসেছে। এই কাজটি তো বিএনপি করে নাই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি দিনও ঘরে বসে নাই। তিনি সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দলের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার সঠিক নেতৃত্বে কারণে সরকার আল্লাহর রহমতে করোনা ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। আমরা সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি তাহলে ভবিষ্যতে পুরোপুরি ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো।

তিনি আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতি যখন শুরু হলো তখন বহু বিশেষজ্ঞ, বহু মত দিয়েছেন। বাংলাদেশে নানা ধরনের বিশেষজ্ঞ আছে। কিছু সত্যিকার বিশেষজ্ঞ, কিছু বিশেষ কারণে অজ্ঞ বিশেষজ্ঞ, আবার কিছু সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। এই বিশেষজ্ঞরা শুরুতে বলেছিলেন, বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করবে। তাদের আকাঙ্ক্ষাকে ভুল প্রমাণিত করে, শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্বে কারণে কেউ অনাহারে মৃত্যুবরণ করেনি।

বক্তব্যের শুরুতে ১৫ আগস্ট নিহত সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, বাঙালি জাতি ছিল তার সংসার। আর সেই সংসারকে ধরে রেখেছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা। শুধু সংসার ধরে রেখেছিলেন তা নয়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিল্লাতুন্নেছা বঙ্গবন্ধু যখন জেলে থাকতেন তখন দলটাকে ধরে রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ এসেছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিল্লাতুন্নেসার কাছ থেকে।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি শ্রী সুজিত রায় নন্দী বলেন, বঙ্গমাতা ছিলেন ত্যাগের প্রতিক আদর্শের প্রতিক। তিনি ছিলেন আপোসহীন, দূরদর্শী, সাহস সঞ্চারের অধিকারী মহিয়সী নারী। তিনি আরো বলেন, কৃষক লীগ অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় কাজ করছে। তারা মানবিক সাহায্য অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই করোন কালীন সময়ে ১ কোটি ২৫ লক্ষ মানুষকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করে এবং নগদ ১০ কোটি টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ সরকার দেশে ৭ কোটি লোককে ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করেন। যারা দূর্নীতি করার চেষ্টা করছে সরকার তাদের কঠোর হস্তে দমন করছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকল হাসপাতালে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পাঁচশত কোভিড ডাক্তারকে বিশেষ উপহার সামগ্রী প্রদান করেছেন। প্রত্যেকটি হাসপাতালে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী প্রদান করেছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের সংগ্রামী সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ এবং সঞ্চলনা করেন সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, জাতির পিতা কৈশরের মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু মুজিবে পরিণত করার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। ছায়ার মত আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিলেন বঙ্গমাতা। আজকের এই দিনটি একই সাথে আনন্দের এবং বেদনার। বঙ্গমাতা এবং ১৫ আগস্ট নিহত সকল শহীদের আত্মার শান্তি কামানা করে বক্তব্য শেষ করেন।

অন্যান্যদের মধ্যে সভায় উপস্থিত ছিলেন, শেখ জাহাঙ্গীর আলম, আকবর আলী চৌধুরী, মোস্তফা কামাল চৌধুরী, কৃষিবিদ বিশ্বনাথ সরককার বিটু, বেগম হোসনে আরা এমপি, আবুল হোসেন, ড. কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম, অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি এমপি, অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম পানু, আজম খান, সাগিরুজ্জামান শাকীক, হিজবুল বাহার রানা, রেজাউল করিম রেজা, লায়ন আহসান হাবীব, আব্দুস সালাম বাবু, মোঃ হালিম খান প্রমুখ।

অতঃপর বঙ্গমাতা শহীদ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের রুহের মাগফিরাত কামনাকরে দোয়া ও মোনাজাত করা হয় এবং কেক কাটা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন পীর ইয়ামিনী মসজিদের খতিব মাওলানা এমদাদুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
%d bloggers like this: