আজ ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

টঙ্গীতে অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণের হিরিক

মোঃ নজরুল ইসলাম,গাজীপুর প্রতিনিধি :

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণের হিরিক পড়েছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এইসব ভবন নির্মাণ করছে। অনুমোদন ছাড়াই অসংখ্য বহুতল ভবন তৈরি হচ্ছে গোটা শহর জুড়ে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে ঝুঁকিপূর্ণ শহরে রূপান্তরিত হবে গাজীপুর।

২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনও পরিকল্পিত নগরায়ন বাস্তবায়ন করতে পারেনি। শহরের নির্মাণ সেক্টর সবচেয়ে বেশি ঝুকিতে রয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভবন নির্মাণে অনুমোদনের দায়িত্ব রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউকের আওতাধীন। রাজউকের লোকবল সঙ্কটে দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তাব্যক্তিদের উদাসীনতা ও অবৈধ সুযোগ সুবিধা নেয়ার প্রবণতা থাকার কারণে দিনদিন অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে জনগণ উৎসাহিত হচ্ছে। অনেকেই সাবেক পৌরসভার অবৈধ প্লান নিয়ে ভবন নির্মাণ করছেন।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ ৭ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পুরোনো পৌর প্লানের অনুমোদনে ভবন নির্মাণ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কিছু নামধারী কনসালট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আছেন,তারা ভবনের নকশা তৈরি করে তারাই সিটি কর্পোরেশনের কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিদেরকে মেনেজ করে সাবেক পৌর মেয়রের স্বাক্ষরিত অনুমোদনপত্র ব্যবস্থা করে দেন। এ বিষয়ে টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র এড. আজমত উল্লা খান বলেন, একটি কুচক্রি মহল আমার স্বাক্ষর নকল করে এধরনের জগন্য অপরাধের কাজ করে থাকতে পারে। যারা এ ধরনের কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি।

তিনি আরো বলেন, একটি আধুনিক সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে হলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক এর আইন মেনে প্রত্যেকে ভবন নির্মাণ করতে হবে। এখনি এর প্রতিকারের ব্যবস্থা না করলে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে ভবনের মালিকগন। খুব শীঘ্রই গোটা নগর ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে এবং সামান্য ভূমিকম্প হলেই ভবনগুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়াও সরকার হারাবে কোটি টাকার রাজস্ব।

এ বিষয়ে একাধিক ভবন মালিকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, সবাই যে ভাবে ভবন নির্মাণ করছেন, আমরাও সেইভাবেই করছি। অনিয়মের বিষয়ে আরেকটু খতিয়ে দেখতে সরেজমিনে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী জোনের ৪৫নং ওয়ার্ড আরিচপুর এলাকার তানভীর বেকারীর মালিক শাজাহানের নির্মাণাধীন ভবনের অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সাবেক পৌরসভার প্লানের নিয়ম মেনে কাজ করছি। প্লানের অনুমোদনের সূত্র ধরে সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-১ এ যোগাযোগ করে দেখা যায়, ২৯ জানুয়ারী ২০১৩, স্মারক নং-৩৫৬৭ এই মর্মে একটি অনুমোদন রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ রেজি: খাতায় উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

এমনকি কনসালট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ স্বাক্ষরিত নকশা অনুমোদন ৩ জানুয়ারী ২০১৪ ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদন নিতে প্রথমই নকশা কাগজ দাখিল করতে হয়। এমনকি সাবেক পৌর মেয়রের ভলিওয়ম রেজিষ্টারে স্বাক্ষরের সাথে হুবহুব মিল পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ভবনের মালিক শাহজাহানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আপনি নিউজ করেন। আপনাকে দেখার আছে। এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-১ এর নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম সোহরাব হোসেন বলেন, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবৈধ ভবনগুলোতে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। তবে লোকবল সমস্যা কারণে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

আপনারা এ বিষয় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করতে পারেন। এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব এড. মো: জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
%d bloggers like this: