আজ ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বিএমএসএফ’র জন্মদিনে সাংবাদিক রোখসানা সিদ্দিকীর লেখা “জেগে ওঠো বাংলার বিবেক”

বিএমএসএফ প্রতিনিধি ঃ

হ্যাঁ এ স্লোগানে নিদ্রারত মানবতাকে (সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের প্রয়োজনে) জাগ্রত করার মানসে ২০১৩ সালে অনিশ্চয়তার মাঝে ভয় উৎকন্ঠাকে পাশ কেটে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল “বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম সংক্ষেপে বিএমএসএফ”নামের সংগঠনটি।

হীন স্বার্থের বেড়াজালের বন্দিশালায় ঘুরপাকের মাঝে বিবেককে কতটা জাগ্রত করতে পেরেছে তা সংবাদকর্মীরা অনুধাবন, স্মৃতিচারনে প্রকাশ করবেন।তবে বাংলার আনাচে কানাছে সংগঠনটি তার নিজস্বতা, স্বক্রিয়তা জানান দিতে সক্ষমতাসহ মুন্সীয়ানার সাক্ষর রেখেছে।

সবাই যখন জড়তা ও নির্জিবতায় গৃহবন্দিত্বে তখনও এ সংগঠনটি প্রতিটা নির্যাতন, মামলা হামলায় জর্জরিত সাংবাদিকদের পাশে থেকে প্রতিবাদের মিছিল অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে।

সমসাময়িক সময়ে দেশের প্রত্যন্তাঞ্চালে নির্যাতিত অনেকগুলো নিবেদিত সাংবাদিকের উপর অত্যাচারগুলোর প্রতিবাদ এবং অত্যাচারীর বিচার দেখামতে একমাত্র এই সংগঠনটি করে এসেছে, করে যাচ্ছে।

আমি আগেও বলেছি,এখনও বলছি যে বিএমএসএফ সংবাদকর্মীদের স্বার্থে কথা বলা সংগঠন এবং আমি একজন সংবাদ শ্রমিক হেতু কথা বলতেছি। এতদ্ব্যিত এ বিষয়ে কোন অধিকার রাখিনা।

আরেকটি বিষয়ে আলোকপাত করা শ্রেয় মনে করি,সংগঠনটির কেন্দ্রিয় সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর যতটা সক্রিয় তার অর্ধেক সক্রিয়তা যদি জেলা কমিটির সভাপতি সম্পাদকগনের মাঝে বিরাজমান হত তবে সত্যি বলতে কি এতদিনের প্রয়োজন লাগত না অনেক আগেই বাংলার বিবেক স্বমহিমায় মানবতার পাশে দাড়ানোর তাগিদে জেগে ওঠতোই।

যা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। স্বীকার করতেই হবে সাংগঠিনিক শক্তিতে দুরদৃষ্টিসম্পর্ন্ন রাজনৈতিক প্রাজ্ঞতার সংমিশ্রনের অভাব এখানে বড় কারন হয়ে অনেকাংশে অনেক শাখাতে অনেকক্ষেত্রে নতজানুতায় পর্যবসিত।

তবে সব চেয়ে বড় কৃর্তিত্ব দাবী করার সুযোগ এই বিএমএসএফ সংরক্ষন করে কারন মফস্বলে অনেকগুলো তুখোড় সংবাদকর্মী এই প্লাটফরমের কারনে সৃষ্টি হয়েছে।

তবে মারের জায়গায় কিছুটা ম্লানতা রয়ে গেছে সংগঠনটির নামের মাঝে। সংগঠনটিতে “”মফস্বল “”শব্দটি। এটি শুনে অনেক ক্ষেত্রে অনেকে মনে করে নেয় এটি আঞ্চলিক বা মফস্বলের সংগঠন। অথচ এটি সমগ্র দেশ ও মেগাসিটি সমুহেও সমানতালে তার স্বক্রিয়তায় উজ্জলতার বাহক।

ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও স্বার্থের উর্ধ্বে একটু উঠতে পারলেই বিএমএসএফ স্বল্প সময়ে তেজোদিপ্ততা রুপ নিবে তা সময়ের ব্যাপার মাত্র হলেও সংগঠনটিতে রয়েছে তত্বাবধায়নে বিকেন্দিকরনের অভাব। কারন একজন আহমেদ আবু জাফরের উপর বা তাঁর একক প্রচেষ্টায় বৃহতাকার ধারন করা এই সংগঠনটিকে আরও ধারালো করার সক্ষমতা সব সময় সমান কাজ করার সুযোগ সীমিতের কারনে প্রতিটি বিভাগে এবং কেন্দ্রে আরও কিছু শক্তিশালী নেতৃত্ব খুবই প্রয়োজন।

নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে আর চাইবেই বা কে তাই একক ভাবে লড়তে যাচ্ছে এক আহমেদ আবু জাফর।নিজেদের এবং প্রজম্মের স্বার্থে আমাদের সকলের উচিত তাঁকে সহযোগীতার মাধ্যমে এই সংগঠনটিকে শক্তিশালী করনে স্বচেষ্ট হওয়া।

পরিবার পরিজন সবার আছে,আছে পরিবার পরিজনের রুটিরুজির বিষয়।সেখানে নেশা কেটে গেলে বাস্তবতার মাঝে এই আহমেদ আবু জাফর নামের কোন এক পরিবারের কর্তাব্যক্তিটিও বিনাস্বার্থে কতক্ষন এই নাও বেয়ে নিতে সক্ষম হবেন?

ফলশ্রুতিতে এই বৃহত্তর সংগঠনটিকে সংবাদকর্মীদের স্বার্থে অপ্রতিরোধ্য শক্তিশালী করতে কেন্দ ও জেলা কমিটি গুলোর বিষয়ে গঠনতন্ত্রে কিছু নতুনত্ব আনয়ন জরুরী।

প্রতিটি জেলা সদস্য মাসে দুই টি টাকা করেও যদি কেন্দ্রীয় কমিটির তহবিলে দেয় তবেও কেন্দ্রে দু,তিনজন ব্যক্তির সংসার চালানোর জন্য কারও মুখাপেক্ষি হওয়া লাগবেনা ফলে তাঁহারা সর্বাবস্থায় সংগঠনটিকে শক্তিশালী করনে কাজ করে যেতে সক্ষম হবেন। এবং দু,তিন বছরের মাঝে এই সংগঠনটির সদস্য শুনলেই কোন কুলাঙ্গার সে যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন কোন সাংবাদিককের উপর নির্যাতন হামলা মামলার সাহসই পাবেনা।

তর্জমু করতে গেলে অনেক লেখা যাবে,আমি সংবাদকর্মীর পুর্ব হতে একজন রাজনৈতিক কর্মী।যদিও আমার মিডিঙা প্রতিষ্ঠানে কোন প্রকার পক্ষপাতিত্বের ব্যাপার নেই। অনেক জেলা উপজেলা নেতৃবৃন্দের সহিত আলাপ হয় যোগাযোগ হয়।সেই সকল আলাপের মাঝে সব জায়গায় স্হানীয় পরিবেশসহ সংবাদপত্র জগতও ওঠে আসে।সে সকল আলোচনায়ও দেখতে পাই একমাত্র বিএমএসএফ কমন সংগঠন যা তাদের এলাকায়ও বিরাজমান।।

যদিও অনেক কথা ছিল যা আমার স্থানীয় জেলায় কিছু বেকায়দাজনকের কারনে বলা বা স্মৃতিচারন সম্ভব হয়ে ওঠেনি তবুও সাংবাদিকদের প্রাণের সংগঠন বিএমএসএফ’র শুভ জন্মদিনে সকলের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা থাকলো।
আমিও চলার পথে এসংগঠনটিকে নিজের মনে করে সাথে থাকবো, আপনারা যারা সংবাদপত্র জগতে আছেন তাঁরাও নিজেদের প্রয়োজনে এই সংগঠনটির পাঁশে থাকবেন এ প্রত্যাশা করি।

আরেকটি অপ্রিয় কথা না বললেই নয়, তাহল এই সংগঠনটিকে গতিরোধ করার মানসে বিভিন্ন ভাবে,পর্যায়ে,স্তরে কুচক্রিরা কিন্তু সক্রিয়। তাই সকল নেতৃবৃন্দকে ধৈয্যের সহিত পরিস্থিতি উত্তরনে কৌশলী হতে হবে।

সবাইকে মনে রাখতে হবে আমরা কেউ চিরস্থায়ী নয়। সৃষ্টি চিরদিন অম্লান। প্রজম্মের জন্য নিরাপদ পথ বেষ্টনি তৈরী করা সম্ভব না হলে আমাদের সন্তানরা এই বন্ধুর পথে অনিহা প্রকাশ করে আসবেনা। আসবেনা মেধাবীরা ফলে দেশও জাতিকে অন্ধকারের মাঝে হাবুডুবো খেতে হবে। তাই দেশ,জাতীর স্বার্থে সবাই নিজেদের করে নেওয়া সংগঠনটি হোক বিএমএসএফ।
বিএমএসএফ’র ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকিতে এর সাথে সংশ্লিষ্টদের সুস্বাস্থ্য দীর্ঘায়ু কামনা করি। যদি তাদের মাঝে কেউ না ফেরার দেশের বাসিন্দা হয়ে থাকেন আমি তাদের আত্মার শান্তি কামনা করি।

——রোখসানা ছিদ্দিকী
সম্পাদক “দৈনিক সমসাময়িক প্রতিদিন”
ফেনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
%d bloggers like this: