আজ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গাজীপুরে কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য এনজিওদের চাপ সৃষ্টি 

মোঃআরিফ মৃধাঃ
গাজীপুর মহানগরের গাছা থানা এলাকায় বিভিন্ন এনজিওদের বিরুদ্ধে কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের উপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বের মানুষকে ঘর বন্দি করে রেখেছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে মহামারী এ ভাইরাস। ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে ব্যাপকভাবে। করোনার কারণে মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছ।বিশেষ করে সাধারণ  মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছ।
সাধারণ এমানুষগুলো ঘরবন্দী অবস্থায় আছে প্রায় ৩ মাসেরও বেশি সময় যাবত। কাজ হারিয়ে বেকার অবস্থায় ঘরে একরকম বন্দি হয়ে আছে তারা। তিনবেলা পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া হচ্ছে তাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তদুপরি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো তাদের মাথায় চেপে বসেছে এনজিওদের ঋণ আদায়ের চাপ। অসহায় মানুষগুলো একটু ভালো থাকার আশায় ব্যবসা-বাণিজ্য অথবা গবাদিপশু পালন করবে এই কারণে এদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়।
ঋণ নেওয়ার পর করোনা ভাইরাস দেখা দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তারা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে আসছিল। হঠাৎ করে করোনা ভাইরাসের কারণে তারা বেকার হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত কিস্তি দিতে পারছিল না। এজন্য এনজিওর সদস্যরা অসহায় মানুষগুলোর উপর বারবার কিস্তি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছে। এনজিও সদস্যদের রক্তচক্ষু তাদের জীবনের সুখ যেন কেড়ে নিয়েছে। এ নিয়ে  তারা এখন দিশেহারা। পরিবারের সদস্যদের মুখে ভাত তুলে দিবে নাকি এনজিওদের কিস্তি পরিশোধ করবে। এনজিও কর্মকর্তাদের কাছে বারবার তারা সময় বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও বিষয়টি তারা কোনমতেই মানতে নারাজ।
তাদের সাফ কথা হলো তোমরা খেয়ে থাকো আর না খেয়ে থাক। কিন্তু আমাদের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। এদিকে সরকার করোনা ভাইরাসের কারণে এনজিওসহ সকল ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে করে তারা জুন মাস পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের উপর চাপ প্রয়োগ না করেন। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বাড়তে থাকায় সরকার ঋণদান প্রতিষ্ঠানগুলোর কিস্তি পরিশোধ না করতে আবারও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের উপর যেন চাপ সৃষ্টি না করেন এমন নির্দেশনা দিয়েছেন।
কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে তাদের খেয়ালখুশিমতো গ্রাহকদের উপর কিস্তি পরিশোধের জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছেন। এতে অধিকাংশ পরিবারে হতাশা দেখা দিয়েছে। কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারার কারণে ওই সকল পরিবারের অনেকেই আত্মহত্যা পর্যন্ত করতে চেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ‘বাসা’ নামক এনজিওর একজন কর্মীর সাথে মুডোফোনে কথা বললে, তিনি সাংবাদিকদের যা তা বলে খারাপ আচারন করেন এবং তাদের ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকানা আপনারা খুঁজে নেন। শাখা ব্যবস্থাপকের মোবাইল নাম্বার তার কাছে চাইলে তিনি বলেন, মোবাইল নাম্বার আপনারা বের করো নেন। আমার নাম্বার আপনারা কোথায় পেয়েছেন?  এরকম আচরণ করেন তিনি সাংবাদিকদের সাথে। সাংবাদিকের সাথে তিনি রীতিমতো দুর্ব্যবহার করেন।
এ বিষয়ে জিএমপির গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ ইসমাইল হোসেন বলেন, সরকারের নির্দেশনা রয়েছে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এনজিওগুলো কিস্তির জন্য কোন চাপ প্রয়োগ করতে পারবেনা। কেউ যদি সে আইন অমান্য করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিব।
এ বিষয়ে কথা হয় এনজিও প্রতিষ্ঠান ‘বাসা’ এর শাখা ম্যানেজারের সাথে। তিনি বলেন, আমাদের এনজিওদের পক্ষ থেকে আমরা গ্রাহকদের কোন চাপ প্রয়োগ করছি না। যদি কোন সদস্য চাপ প্রয়োগ করে থাকে তদন্ত সাপেক্ষে আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
এদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ, কিস্তির টাকার জন্য বারবার তাদেরকে চাপ করা হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাতে করে চাপ প্রয়োগ না করা হয়, সে বিষয়ে সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে অবশ্যই নজর দিবেন এবং তাদেরকে আইনি সহযোগিতা দিবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেন সাধারণ জনগণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
%d bloggers like this: