আজ ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঝালকাঠিতে কিস্তির টাকা না দিতে পারায় ঋণ গৃহিতাকে হত্যার চেষ্টা:থানায় মামলা দায়ের

ইমাম বিমান :

ঝালকাঠিতে করোনা সংকটে কিস্তির টাকা না দিতে পারায় প্রকাশ্যে ঋন গ্রহীতাকে মারধর করে হত্যার চেষ্টা অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঝালকাঠিতে করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেও থেমে নেই বেসরকারি সমবয় সমিতির আওতাধীন কিস্তির টাকা আদায়। আর এ কিস্তির টাকা দিতে না পারায় মজিবর রহমান(৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে ধরালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা চেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে মিলন হাওলাদার(৩৮) ও সুমন মাঝি( ৩৬) নামের দুই এনজি কর্মীর বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার(২৪ জুন) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটেছে শহরের পুরাতন খেয়াঘাটে।

এ বিষয় থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, ঝালকাঠি পৌরসভাধীন আশার আলো কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড কতৃক পৌরসভা খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত মোঃ মজিবর রহমান ঝালকাঠি পূবালী ব্যাংক শাখায় তার ব্যক্তিগত এ্যাকাউন্টে ব্যবহারিত নিজ স্বাক্ষর সম্বলিত একটি চেক জামানত পূর্বক উক্ত সমবায় সমিতি থেকে চল্লিশ হাজার টাকা ঋন গ্রহন করি। উক্ত ঋনের টাকা কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করে আসছি, ঋণ গ্রহনের পর থেকে ৯টি কিস্তি পরিশোধ করা হলে দেশে করোনা ভসইরাস (কোভিড-১৯) প্রাদূর্ভাবের জন্য বাকি কিস্তির টাকা যথাসময়ে পরিশোধ করতে না পারায় উক্ত সমবায় সমিতির পরিচালক মিলন হাওলাদার আমার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে বিভিন্ন সময় কিস্তির টাকা পরিশোধ করার জন্য গালাগাল পূর্বক আমাকে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

গত ২৪ জুন সন্ধ্যায় আমার মুঠোফোনে উক্ত সমিতি সদস্য সুমন মাঝি আমাকে পৌর খেয়াঘাট সংলগ্ন রাস্তায় বের হতে বলে। আমি সুমনের কথায় রাস্তায় বের হলে আশার আলো কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির পরিচালক মিলন হাওলাদার কোন কথা না বলে কিস্তির টাকা দে, বলে আমার গলা চেপে আমাকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। আমি কোনমতে আমার গলা থেকে তার হাত সরিয়ে ফেলে চিকিৎকার করলে তারা দুজনে মিলে আমাকে এলোপাথারী কিলঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায় মিলন তার প্যান্টের পকেট থেকে চাকু বের করে আমার গলায় পোচ দেয় আমি সরে গেলে সেই পোচ আমার বাম কানের উপর লেগে কাটা যখম হয়। আমাকে মারধর করার ফাঁকে মিলন ও সুমন আমার গলায় থাকা স্বর্নের চেইন, পকেটে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে মজিবরকে খুনের ভয় দেখিয়ে মিলন ও সুমন চলে যায়।

এ বিষয় ভুক্তভোগী মজিবর বলেন, করোনা মহামারীর পূর্বে আমি ঝালকাঠি শহরের সদর চৌমাথা এলাকার আশার আলো কৃষি উন্নয়ন সমবয় সমিতির লিমিটেড থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করি। নিয়মিত ভাবে ৯টি কিস্তির টাকাও পরিশোধ করি।কিন্তু এর পর করোনা মহামারী শুরু হলে আর্থিক ভাবে অসহায় হয়ে পড়ি এবং তিন মাস ধরে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হই। ব্যর্থতার জেরধরে অভিযুক্ত মিলন ও সুমন আমাকে প্রতিনিয়তা কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য গালাগাল পূর্বক চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

এ বিষয় মজিবর রহমানের স্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবার মাগরীব নামাজ শেষে আমি তজবী পড়তে ছিলাম হঠাৎ ঘরের বাইরে আমার স্বামীর চিৎকার শুনতে পেয়ে আমি ও আমার ছেলে মেয়ে দৌড়ে গিয়ে দেখি মিলন ও সুমন আমার স্বামীকে মারধর করছে। আমি দৌড়ে গিয়ে আমার স্বামীকে জড়িয়ে ধরে তাদেরকে না মারার জন্য অনুরোধ করলেও তারা মারধর করতে থাকে, আমি বারন করতে গেলে মিলন আমার শরীরেও কিলঘুষি মেরে আঘাত করে।

করোনা মহামারিতে সরকার এনজিও ঋণের কিস্তি পরিশোধ শিথিল করেছে। এমন কি চাপ দিয়ে টাকা আদায় করলে ওই এনজিওর নিবন্ধন বাতিল করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তারপরও মজিবর রহমানের কাছ থেকে জোর করে কিস্তির টাকা আদায় করার চেষ্টা করে মিলন ও সুমন। এ বিষয় অভিযুক্ত মিলনের ফোনে কল করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অপরদিকে সুমনের ফোনে কল দিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি মারধরের কথা অশ্বিকার করে বলেন, মজিবরের সাথে আমাদের বাকবিতন্ড হয়।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি থানার ওসি খলিলুর রহমান বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
%d bloggers like this: