আজ ১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নেত্রকোনায় প্রতারক রোজিনার কথিত ধর্ষনের তথ্য ফাঁস, ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ

ইকবাল হাসান, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:

বর্তমান সময়ে কেন্দুয়ার আলোচিত নারী রোজিনা। একের পর এক পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়েই তিনি হন আলোচিত। তাকে সামনে রেখে পেছনে কাজ করে একটি ভয়ানক প্রতারক চক্র। চক্রটি সাধারন মানুষসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেয় অর্থ। তাদের মতে কাজ না করলে রোজিনাকে দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের আইনে গুরুতর অভিযোগ তোলে।

এমন বহু ঘটনার সূত্র নিয়ে কেন্দুয়ায় আলোচনা চলতে থাকলে বেরিয়ে আসে ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণের মামলা না নেয়ার অভিযোগের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় নুসরাত জাহান নাদিয়া ওরফে রোজিনার প্রতারণার বিষয়টি এখন সবার মুখে মুখে। তার ভাই কামরুল ইসলাম তার প্রধান সহযোগী। তারা উভয়ে মিলে অসংখ্য পুরুষকে প্রেমের ফাঁদে, কখনো নতুন কৌশলে ফেলে যৌন হয়রানীর অভিযোগ তুলে আদায় করে মোটা অংকের অর্থ।

রোজিনা কেন্দুয়া থানার ওসি রাশেদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। পুরো বিষয়টি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কামরুল ও রোজিনাসহ চক্রটির প্রতারণা ধরে ফেলায় এবার এই চক্রের অভিযোগের তীর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে । প্রতারক কামরুল ইসলাম মিথ্যা অভিযোগ করে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সময় গত ২৯ শে জানুয়ারি প্রিন্স খাঁন বাবু নামের এক ছেলে রোজিনাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে । থানায় অভিযোগ করতে আসলে ওসি মামলা না নিয়ে পক্ষান্তরে অপমান করে থানা থেকে হুমকি-ধমকি দিয়ে বের করে দেয়। উক্ত বিষয়টি সাংবাদিক সম্মেলনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ওসি রাশেদুজ্জামান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। কারণ উক্ত বিষয়টি আমি তদন্ত করিনি। এসপি নেত্রকোনা স্যারের নির্দেশে সার্কেল মাহমুদুল হাসান স্যার দায়িত্বভার নেন। এ বিষয়ে সার্কেল মাহমুদুল হাসান স্যার ভালো বলতে পারবেন।

সহকারি পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান বলেন , গত ৩০ শে জানুয়ারি সন্ধ্যায় অনুমানিক সাতটা কি আটটা দিকে কেন্দুয়া পৌরসভা বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন নুরজাহান হোটেল থেকে থানায় ফোন আসে । হোটেল ম্যানেজার বলেন আমার হোটেলে একটি মেয়েকে নিয়ে গোলমাল হচ্ছে আপনারা একটু আসেন। থানা থেকে টিম ঘটনাস্থল নুরজাহান হোটেলে যায় সেখানে উপস্থিত লোকজন হোটেল বয়দের জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে এখানে এই মেয়েটি (রোজিনা) তার দুই বন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নাটক করে যাচ্ছে। এতে অনেক লোকজন জড়ো হয়। আমাদের ব্যবসার সমস্যা হচ্ছে। রোজিনার সাথে দুই ছেলেকে দেখতে পেয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তাদের থানায় নিয়ে আসে । থানায় আনার পর রোজিনাকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় ওরা আমার বন্ধু ,হোটেলে ওরা আমাকে মুখে খাবার তুলে দিচ্ছিল।

থানায় আসার পর হোটেলে অবস্থান করার কারণ জানতে চাইলে সে আমাদের জানায় যে প্রিন্স খান বাবু নামের একটি ছেলের সাথে দীর্ঘদিন ধরে তার প্রেমের সম্পর্ক চলছে। তাকে বিয়ে করবে এই আশায় দুই বন্ধুকে নিয়ে হোটেলে অবস্থান করে। কিন্তু প্রিন্স বাবু আসে নাই তাই তার বিরুদ্ধে মামলা করবে।
শুধু তাই নয় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বিবাহিত তার স্বামী আছে বলে আমাদের কাছে স্বীকারোক্তি দেয়। বাবুকে বিয়ে করতে না পারলে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকি প্রদান করে । এমতাবস্থায় তার স্বামীকে ডাকলে তার স্বামী আসে নাই। তার ভাই কামরুলকে ডেকে থানায় আনা হয়। বিষয়টি তার ভাইকে জানালে তার ভাই রোজিনাকে বাড়ি নিয়ে যেতে অস্বীকৃতি প্রদান করে। এ অবস্থায় কামরুল ইসলাম ও তার বোনকে থানা ডিউটি অফিসারের রুমে বসার ব্যবস্থা করা হয়। পরদিন সকালে আমি যথারীতি এসপি স্যারের নির্দেশে তদন্তের কাজ শুরু করি। আমার তদন্তের কাজে সহায়তা করেছে ইন্সপেক্টর তদন্ত হাবিবুল্লাহ খান , সহকারি উপ পরিদর্শক আব্দুল হালিম। রোজিনার অভিযোগ প্রিন্স বাবু তার সাথে প্রেম করেছে এখন তাকে বিয়ে করতে হবে। তদন্তে জানা যায় প্রিন্স খান বাবু ওই দিন তাকে কোন ফোন করেনি। ইভেন সে তার কাপড়ের দোকানে ব্যস্ত ছিল।

উক্ত বিষয়টি এসপি স্যারকে জানানোর পর উনি কেন্দুয়া থানার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সামনে আলোচনা সাপেক্ষে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ প্রদান করেন। আমি স্যারের নির্দেশ মতো প্রিন্স খান বাবু, রোজিনা ও তার ভাই কামরুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর তদন্ত থানায় উভয়পক্ষের সামনা সামনি সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো সত্যতা খুঁজে পাইনি। যেহেতু প্রেম‌ ঘটিত বিষয় কোনো অনৈতিক ঘটনা ঘটেনি। সে কারণে পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানে পরামর্শ দেয়া হয়। রোজিনাকে এই ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার জন্য তার ভাইকে পরামর্শ দেয়া হয়। অতঃপর কেন্দুয়া থানা গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সম্মুখে রোজিনাকে তার ভাই কামরুল ইসলামের হাতে সোপর্দ করি। এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানায় ৩০ জানুয়ারী একটি সাধারণ ডায়েরি করে রাখা হয়েছে। উক্ত সময়ে উপস্থিত ছিলেন কেন্দুয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুল হাসান, চিরাং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসু মহাজন, চিরাং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুলসহ আরো অনেকেই। পুলিশকে নিয়ে এ ধরনের নোংরা খেলা কেন তা আমার বোধগম্য নয়।

নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী জানায়, সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়াসহ সংবাদ সম্মেলনে যে বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে তা আমার বোধগম্য নয়। কারণ আমি উক্ত নুসরাত জাহান নাদিয়া ওরফে রোজিনার বিষয়টি এ এস পি সার্কেলকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। উনি সকল বিষয় সরেজমিনে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আমার সাথে আলাপ আলোচনা করে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছেন। এতে ওসি রাশেদুজ্জামানের কোন সম্পৃক্ততা আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে প্রতারক নুসরাত জাহান নাদিয়া ওরফে রোজিনার চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। রোজিনার জন্ম ২২/১০/১৯৯৮ইং পিতা গোলাম মোস্তফা ০২/০১/২০১৭ইং তারিখে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সাথে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয়।

পাড়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, জেএসসি পরীক্ষার সময় এই রোজিনা দুই দুইবার পালিয়ে গিয়ে ওই ছেলেকে বিয়ে করে। যা তার পরিবারবর্গ মেনে নিতে চায়নি। একবার বিষয়টি আমি নিজে সমাধান করেছিলাম তখন তার বয়স কম ছিল। আসলে আগে থেকে মেয়েটি এই ধরনের অনৈতিক কাজ কর্মের সাথে জড়িত।

অর্থলোভী রোজিনা একের পর এক পুরুষের সাথে প্রতারণা করে কামিয়ে নিচ্ছে অর্থ। সহযোগিতা করছে তার ভাই কামরুল ইসলাম। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া এই রোজিনাকে কুমারী বলে উপস্থাপন করেছে। শুধু তাই নয়, তার ভাই কামরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনেও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা যায় । সে রোজিনাকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও কুমারী বলে উল্লেখ করেছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।

এসএসসি পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে তার ভাই কামরুল ইসলাম বলেন, মজলিশপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষার্থী ছিল।

উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন দেবনাথ জানায়, নুসরাত জাহান নাদিয়া ওরফে রোজিনা আক্তার পিতা মোস্তফা নামের কোন শিক্ষার্থী ২০২০ সালে আমার স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয় নাই বা পরীক্ষার্থী ছিল না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
%d bloggers like this: