আজ ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ধুনটে পরিত্যক্ত সরকারি ভবনে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস

নাজমুল হাসান নাজিরঃ

ফজলে রাব্বি শুভ বগুড়া ধুনট উপজেলা পরিষদ সরকারি ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে প্রায় তিন বছর আগে। তবে দুর্ঘটনার আশঙ্কার মধ্যেই সেই সরকারি ভবনেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বসবাস করছেন।

এ চিত্র বগুড়ার ধুনট উপজেলা পরিষদের চারতলা স্টাফ কোয়ার্টারের।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাসের জন্য রয়েছে আটটি ভবন। এর মধ্যে একটি ভবন চারতলা এবং বাকি ভবনগুলো দ্বিতল। এসব ভবনে ৩৪টি পরিবারের বসবাসের সুযোগ রয়েছে।

ভবনগুলো নির্মিত হয়েছে আশির দশকে। দীর্ঘদিন ধরে দফায় দফায় সংস্কার করা হয়েছে। এরপরও ভবনগুলোর আয়ুষ্কাল এখন শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যে চারতলা একমাত্র ভবনটি উপজেলা পরিষদ থেকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অবশিষ্ট ভবনগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,ভবনটির দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে। দরজা-জানালা নষ্ট হয়ে নড়বড় করছে। ছাদ চুঁইয়ে কক্ষের মেঝেতে পানি ঝরে। ছাদের যে অংশে সিলিং ফ্যান লাগানো,সেখানেও ভয়াবহ অবস্থা। যে রড দিয়ে ফ্যানটি ছাদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, সেটির চারপাশের সিমেন্ট খসে পড়েছে। তাতে বেরিয়ে আসা রডটাও জরাজীর্ণ।

ফ্যান ঘুরছে বিকট শব্দে,তা ছাড়া ভবনের নিম্নাংশ মাটির নিচে ঢুকে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে সিঁড়ি পর্যন্ত পানি ঢুকছে। ইট ও কাঠ বিছিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবাসিক ভবনটির অবস্থা এতই শোচনীয় যে কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে সেখানে থাকতে চায় না।

ভবনটির ভগ্নদশার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্যত্র বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। তাতে একদিকে কর্মক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে,অন্যদিকে অর্থনৈতিক ভাবেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

উপজেলা পরিষদের স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাসরত পরিবারগুলো জানায়, চাকরির সুবাদে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছেলে-মেয়ে ও পরিবার-পরিজন নিয়ে চারতলা কোয়ার্টারে বসবাস করছেন।কিন্তু ভবনটির অবস্থা বর্তমানে খুব বেহাল হয়ে পড়ায় তাঁরা সব সময় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই সেখানে থাকতে হচ্ছে চারটি পরিবারকে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, চারতলা আবাসিক ভবনটি বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।অবশিষ্ট ভবনগুলো সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে।

তবে উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন করে আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
%d bloggers like this: